আগের দুই আসরের বাছাইপর্ব খেলতে হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। একবার সেই বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিলেও ২০২৩ সালের আসরে বাছাইপর্ব উতরাতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। এবার টানা তৃতীয়বারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার শঙ্কায় পড়েছে তারা। আর সেই সমীকরণের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্যও।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের জয়ের পর ২০২৭ বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে নতুন হিসাব তৈরি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেবে মোট ১৪টি দল। সহ-আয়োজক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে।
বাকি আটটি জায়গা নির্ধারিত হবে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। দুই আয়োজকের মধ্যে একটি দল যদি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকে, তাহলে নবম স্থানে থাকা দলও সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। আর দুই আয়োজকই যদি শীর্ষ আটে থাকে, তাহলে শীর্ষ ১০-এ থাকা দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করবে।
বর্তমানে আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে রয়েছে। ফলে নবম স্থানে থাকা দলও সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাবে।
এই মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান ১০ নম্বরে। তাদের রেটিং পয়েন্ট ৭৭। নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশের রেটিং ৮৩, আর আট নম্বরে থাকা আফগানিস্তানের রেটিং ৯০।
অর্থাৎ সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত নবম স্থানে উঠতে হবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বাকি আছে মাত্র দুটি ওয়ানডে। দুটিই ভারতের বিপক্ষে, তাও আবার ভারতের মাটিতে।
সেই সিরিজে দুই ম্যাচ জিতলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে অষ্টম স্থানে ওঠা সম্ভব হবে না। এমনকি নবম স্থানেও ওঠার পথও প্রায় বন্ধ।
কারণ, বাংলাদেশের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান বর্তমানে ৬। ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই জিতলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং সর্বোচ্চ ৮২ হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থাকবে ৮৩ পয়েন্টে।
এই সময়ে বাংলাদেশের কোনো ওয়ানডে না থাকায় তাদের রেটিং পয়েন্ট বাড়বে না। একই সঙ্গে ম্যাচ না থাকায় রেটিং কমার ঝুঁকিও নেই। ফলে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচ জিতেও বাংলাদেশকে টপকানো ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য কার্যত অসম্ভব।
তবে হিসাব পুরোপুরি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নয়। বাংলাদেশের সামনে তৈরি হতে পারে নতুন বিপদ।
আগামী ১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের ভারতের বিপক্ষে একটি সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। যদিও সিরিজটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সিরিজটি অনুষ্ঠিত হলে এবং বাংলাদেশ সেখানে হেরে গেলে র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব বদলে যেতে পারে। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য নবম স্থানে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করবে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ দুই ম্যাচের ফলের ওপর। অর্থাৎ সরাসরি ২০২৭ বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে শুধু নিজেদের অবস্থান ধরে রাখলেই হবে না, র্যাঙ্কিংয়ের এই জটিল সমীকরণও মাথায় রাখতে হবে লিটন দাসের দলকে।
সব মিলিয়ে, আপাতত ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বাংলাদেশই কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য বাংলাদেশ-ভারত সিরিজই বদলে দিতে পারে পুরো সমীকরণ।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
আগের দুই আসরের বাছাইপর্ব খেলতে হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। একবার সেই বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিলেও ২০২৩ সালের আসরে বাছাইপর্ব উতরাতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। এবার টানা তৃতীয়বারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার শঙ্কায় পড়েছে তারা। আর সেই সমীকরণের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্যও।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের জয়ের পর ২০২৭ বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে নতুন হিসাব তৈরি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেবে মোট ১৪টি দল। সহ-আয়োজক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে।
বাকি আটটি জায়গা নির্ধারিত হবে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। দুই আয়োজকের মধ্যে একটি দল যদি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকে, তাহলে নবম স্থানে থাকা দলও সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। আর দুই আয়োজকই যদি শীর্ষ আটে থাকে, তাহলে শীর্ষ ১০-এ থাকা দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করবে।
বর্তমানে আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে রয়েছে। ফলে নবম স্থানে থাকা দলও সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাবে।
এই মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান ১০ নম্বরে। তাদের রেটিং পয়েন্ট ৭৭। নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশের রেটিং ৮৩, আর আট নম্বরে থাকা আফগানিস্তানের রেটিং ৯০।
অর্থাৎ সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত নবম স্থানে উঠতে হবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বাকি আছে মাত্র দুটি ওয়ানডে। দুটিই ভারতের বিপক্ষে, তাও আবার ভারতের মাটিতে।
সেই সিরিজে দুই ম্যাচ জিতলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে অষ্টম স্থানে ওঠা সম্ভব হবে না। এমনকি নবম স্থানেও ওঠার পথও প্রায় বন্ধ।
কারণ, বাংলাদেশের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান বর্তমানে ৬। ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই জিতলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং সর্বোচ্চ ৮২ হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থাকবে ৮৩ পয়েন্টে।
এই সময়ে বাংলাদেশের কোনো ওয়ানডে না থাকায় তাদের রেটিং পয়েন্ট বাড়বে না। একই সঙ্গে ম্যাচ না থাকায় রেটিং কমার ঝুঁকিও নেই। ফলে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচ জিতেও বাংলাদেশকে টপকানো ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য কার্যত অসম্ভব।
তবে হিসাব পুরোপুরি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নয়। বাংলাদেশের সামনে তৈরি হতে পারে নতুন বিপদ।
আগামী ১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের ভারতের বিপক্ষে একটি সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। যদিও সিরিজটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সিরিজটি অনুষ্ঠিত হলে এবং বাংলাদেশ সেখানে হেরে গেলে র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব বদলে যেতে পারে। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য নবম স্থানে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করবে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ দুই ম্যাচের ফলের ওপর। অর্থাৎ সরাসরি ২০২৭ বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে শুধু নিজেদের অবস্থান ধরে রাখলেই হবে না, র্যাঙ্কিংয়ের এই জটিল সমীকরণও মাথায় রাখতে হবে লিটন দাসের দলকে।
সব মিলিয়ে, আপাতত ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বাংলাদেশই কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য বাংলাদেশ-ভারত সিরিজই বদলে দিতে পারে পুরো সমীকরণ।

আপনার মতামত লিখুন