দেশজুড়ে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে কিশোরগঞ্জেও। জেলার বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্রাহকরা দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সময়মতো রান্না করতে না পেরে কেউ রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন, কেউ আবার স্বজনদের বাড়ি থেকে খাবার এনে খাচ্ছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে ইনডাকশন বা বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার শুরু করেছেন।
এরই মধ্যে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশে থাকা তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের মূল সঞ্চালন লাইনে প্রায় এক মাস ধরে গ্যাস লিকেজের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নদীর পানিতে অনবরত বুদবুদ উঠছে এবং চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে গ্যাসের তীব্র গন্ধ। জাতীয় সম্পদের এমন অপচয়ের পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
কিশোরগঞ্জ শহরের হয়বতনগর এলাকার বাসিন্দা তাহমিনা আক্তার বলেন, তিন দিন ধরে আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। সময়মতো রান্না করতে পারছি না। কখনো রেস্টুরেন্ট থেকে, আবার কখনো গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারী স্বজনদের বাড়ি থেকে খাবার এনে খেতে হচ্ছে। বাসায় চুলা খুবই কম জ্বলে। গভীর রাতে সামান্য গ্যাস এলেও দিনে প্রায় থাকে না। ভাত বসালে ঠিকমতো সেদ্ধ হয় না, নষ্ট হয়ে যায়। এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে জানি না।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক পরিবার সাময়িকভাবে ইনডাকশন চুলা কিনে রান্নার কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে রেস্টুরেন্টগুলোতে খাবারের জন্য গ্রাহকদের ভিড়ও বেড়েছে।
একটি ছাত্রীনিবাসে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। তারা জানিয়েছেন, গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার শহরে ফিরে আসবেন। এতে তাদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কটিয়াদীর কাজীরচর এলাকায় একটি চুন কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টার সময় পাইপলাইনে ছিদ্র হয়ে এ লিকেজের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এ অভিযোগ এখনো নিশ্চিত করেনি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস বের হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হয়নি। এতে প্রতিনিয়ত জাতীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত লিকেজ মেরামত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
কিশোরগঞ্জ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি’র জোনাল বিক্রয় অফিসের ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, লিকেজের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে পাইপলাইনের চাপ কমিয়ে রাখতে হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের প্রক্রিয়াধীন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। লিকেজটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ চলছে। আশা করছি, আগামী দুই দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
জামাল উদ্দিন,
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
৫ আগস্ট ২০২৬
০১৩১৫৬৫১৮৯৬

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
দেশজুড়ে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে কিশোরগঞ্জেও। জেলার বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্রাহকরা দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সময়মতো রান্না করতে না পেরে কেউ রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন, কেউ আবার স্বজনদের বাড়ি থেকে খাবার এনে খাচ্ছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে ইনডাকশন বা বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার শুরু করেছেন।
এরই মধ্যে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশে থাকা তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের মূল সঞ্চালন লাইনে প্রায় এক মাস ধরে গ্যাস লিকেজের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নদীর পানিতে অনবরত বুদবুদ উঠছে এবং চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে গ্যাসের তীব্র গন্ধ। জাতীয় সম্পদের এমন অপচয়ের পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
কিশোরগঞ্জ শহরের হয়বতনগর এলাকার বাসিন্দা তাহমিনা আক্তার বলেন, তিন দিন ধরে আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। সময়মতো রান্না করতে পারছি না। কখনো রেস্টুরেন্ট থেকে, আবার কখনো গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারী স্বজনদের বাড়ি থেকে খাবার এনে খেতে হচ্ছে। বাসায় চুলা খুবই কম জ্বলে। গভীর রাতে সামান্য গ্যাস এলেও দিনে প্রায় থাকে না। ভাত বসালে ঠিকমতো সেদ্ধ হয় না, নষ্ট হয়ে যায়। এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে জানি না।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক পরিবার সাময়িকভাবে ইনডাকশন চুলা কিনে রান্নার কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে রেস্টুরেন্টগুলোতে খাবারের জন্য গ্রাহকদের ভিড়ও বেড়েছে।
একটি ছাত্রীনিবাসে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। তারা জানিয়েছেন, গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার শহরে ফিরে আসবেন। এতে তাদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কটিয়াদীর কাজীরচর এলাকায় একটি চুন কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টার সময় পাইপলাইনে ছিদ্র হয়ে এ লিকেজের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এ অভিযোগ এখনো নিশ্চিত করেনি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস বের হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হয়নি। এতে প্রতিনিয়ত জাতীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত লিকেজ মেরামত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
কিশোরগঞ্জ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি’র জোনাল বিক্রয় অফিসের ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, লিকেজের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে পাইপলাইনের চাপ কমিয়ে রাখতে হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের প্রক্রিয়াধীন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। লিকেজটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ চলছে। আশা করছি, আগামী দুই দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
জামাল উদ্দিন,
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
৫ আগস্ট ২০২৬
০১৩১৫৬৫১৮৯৬

আপনার মতামত লিখুন