দেশের বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পিমা এসোসিয়েটস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলাল-এর বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য, শ্রমিকদের বেতন আত্মসাৎ এবং চাকরি নবায়ণের নামে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে গত ২৩ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, আউটসোর্সিং কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই পিমা এসোসিয়েটস লিমিটেডের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হতো। চাকরি নিশ্চিত করা, চাকরি বহাল রাখা কিংবা চুক্তি নবায়ণের নামেও কর্মীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো কিংবা নবায়ন প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করা হতো।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৬ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব পায় পিমা এসোসিয়েটস লিমিটেড। সে সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মীর মাসিক বেতন ১৪ হাজার ৫৫০ টাকা তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করার কথা ছিল।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কর্মীদের ব্যাংক হিসাবে বেতন না পাঠিয়ে প্রত্যেককে মাত্র ৭ হাজার টাকা করে নগদ দেওয়া হয়। ফলে প্রতি কর্মীর বেতনের উল্লেখযোগ্য অংশ আটকে রেখে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সম্পূর্ণ অর্থ প্রদান না করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
এ ঘটনায় সে সময় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলেও শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল, তারা আন্দোলন, মানববন্ধন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি। দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে অনেক কর্মী আর্থিক সংকটে পড়েন বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন আউটসোর্সিং কর্মীর কাছ থেকেও অভিযোগ পাওয়া যায় যে, নিয়োগ এবং চাকরি নবায়ণের নামে ঘুষ আদায়ের প্রবণতা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের প্রাপ্য অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান পিমা এসোসিয়েটস লিমিটেড বা এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলালের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
দেশের বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পিমা এসোসিয়েটস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলাল-এর বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য, শ্রমিকদের বেতন আত্মসাৎ এবং চাকরি নবায়ণের নামে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে গত ২৩ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, আউটসোর্সিং কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই পিমা এসোসিয়েটস লিমিটেডের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হতো। চাকরি নিশ্চিত করা, চাকরি বহাল রাখা কিংবা চুক্তি নবায়ণের নামেও কর্মীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো কিংবা নবায়ন প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করা হতো।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৬ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব পায় পিমা এসোসিয়েটস লিমিটেড। সে সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মীর মাসিক বেতন ১৪ হাজার ৫৫০ টাকা তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করার কথা ছিল।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কর্মীদের ব্যাংক হিসাবে বেতন না পাঠিয়ে প্রত্যেককে মাত্র ৭ হাজার টাকা করে নগদ দেওয়া হয়। ফলে প্রতি কর্মীর বেতনের উল্লেখযোগ্য অংশ আটকে রেখে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সম্পূর্ণ অর্থ প্রদান না করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
এ ঘটনায় সে সময় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলেও শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল, তারা আন্দোলন, মানববন্ধন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি। দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে অনেক কর্মী আর্থিক সংকটে পড়েন বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন আউটসোর্সিং কর্মীর কাছ থেকেও অভিযোগ পাওয়া যায় যে, নিয়োগ এবং চাকরি নবায়ণের নামে ঘুষ আদায়ের প্রবণতা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের প্রাপ্য অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান পিমা এসোসিয়েটস লিমিটেড বা এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলালের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন