‘মেসির অধ্যায় শেষ, এখন সময় ইয়ামালের’: বিশ্বজয়ের পর স্প্যানিশ ভক্তদের নতুন সুর
খেলাধুলা ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক পরপরই নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে জড়ো হওয়া লা রোহা ভক্তদের বাঁধভাঙা উদযাপন শুরু হয়ে যায়। অনেকের কাছেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের এ জয় নিছক কোনো শিরোপা জয় নয়; এটি ফুটবল বিশ্বের এক নতুন সোনালি যুগের আগমনী বার্তা।
মাত্র ২৬ বছর গড় বয়সের একটি ক্ষুরধার দল এবং ১৯ বছর বয়সী ‘প্লাটিনাম-ফুটেড’ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামালকে সামনে রেখে স্প্যানিশ ফুটবলের এক নতুন যুগের সূচনা দেখছেন সমর্থকরা। ৩৩ বছর বয়সী জোয়ান ওয়াসন নামের এক সমর্থক সদ্য তরুণ লিওনেল মেসির কোলে শিশু ইয়ামালের সেই ভাইরাল ছবির প্রতীকী অর্থ খুঁজে পেয়ে বলেন, ‘এটা যেন নিয়তি। মেসির লামিনকে গোসল করানোর সেই ছবিটা ছিল; আর এখন তিনি (মেসি) যেন তার হাতে ট্রফি ও রাজত্ব তুলে দিচ্ছেন।’
সহজ ছিল না ফাইনালের লড়াই ফাইনালে স্পেন বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং সুযোগ তৈরির দিক দিয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল। তবে মেসি-নেতৃত্বাধীন আলবিসেলেস্তেরা নাছোড়বান্দা ডিফেন্ডিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিক পর্যন্ত স্কোরলাইন গোলশূন্য (০-০) ধরে রেখেছিল। এমনকি ৯৩ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হলেও হাল ছাড়েনি। অবশেষে ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা জাদুকরী গোলেই নিশ্চিত হয় স্পেনের বিশ্বজয়।
ইংল্যান্ড থেকে আসা স্পেনের সমর্থক চার্লি ওয়েবস্টার বলেন, ‘স্পেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের জয়টাই প্রাপ্য ছিল। তবে আর্জেন্টিনা পেনাল্টিতে গেলে লটারির মতো যেকোনো কিছু হতে পারত, তাই আমি কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেরা দলটিই জিতেছে।’
২৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার পেদ্রি এবং ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে নিয়ে গড়া এই তরুণ দলটিকে নিয়ে স্প্যানিশ সমর্থক সারে মনজোন বলেন, ‘আমরা তাদের নিয়ে ভীষণ গর্বিত। তারা আমাদের দেশের অদম্য সম্ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করছে।’
আরেক সমর্থক ব্রায়ান ল্যাসি এই পালাবদলকে দেখছেন ভিন্নভাবে, ‘এটি একটি প্রজন্মগত পরিবর্তন। মেসির অধ্যায় এখন শেষ, আর এখন লামিন ইয়ামালের সময়। স্পেন এখন ফুটবল বিশ্বের শীর্ষে অবস্থান করছে।’
এক যুগের অবসান, আর্জেন্টাইন ভক্তদের চোখে জল অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার ভক্তরা শুধু চ্যাম্পিয়নশিপ হারানোর বেদনাই নয়, বরং দেশকে ফুটবলের সোনালি দিনে ফিরিয়ে আনার কারিগর লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে প্রায় নিশ্চিত বিদায়ের বিষয়টিও মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
টাইমস স্কয়ারে মেসির পুতুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা লিলি নামের এক আর্জেন্টাইন ভক্ত বলেন, ‘মেসি যা করেছে, তা কেউ করতে পারেনি, এমনকি পেলেও নয়। মেসি আমাদের তিনটি বৈশ্বিক ফাইনালে নিয়ে গেছেন, অনেক আনন্দ দিয়েছেন।’
নিউজার্সির বাসিন্দা মারভিন রেয়েসের মতে, ‘মেসি জাতীয় দলের জন্য সবকিছু করেছেন। তিনি দলটাকে নিজের কাঁধে বয়ে নিয়ে গেছেন এবং ২০২২ সালে ৩৬ বছরের বিশ্বকাপ খরা ঘুচিয়েছিলেন।’
আর্জেন্টিনা থেকে আসা ৪৮ বছর বয়সী হোয়াকিন মার্টিনেজ তার সন্তানদের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার কাছে ম্যারাডোনাই ছিল সব, কিন্তু আমার সন্তানদের কাছে সেটা মেসি। যেহেতু মেসি আর থাকবেন না, তাই এখন দলকে নতুন করে অনেক কাজ করতে হবে। আজকের হারের পর অবশ্যই আমাদের খারাপ লাগছে, তবে এটাই তো ফুটবল।’

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
‘মেসির অধ্যায় শেষ, এখন সময় ইয়ামালের’: বিশ্বজয়ের পর স্প্যানিশ ভক্তদের নতুন সুর
খেলাধুলা ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক পরপরই নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে জড়ো হওয়া লা রোহা ভক্তদের বাঁধভাঙা উদযাপন শুরু হয়ে যায়। অনেকের কাছেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের এ জয় নিছক কোনো শিরোপা জয় নয়; এটি ফুটবল বিশ্বের এক নতুন সোনালি যুগের আগমনী বার্তা।
মাত্র ২৬ বছর গড় বয়সের একটি ক্ষুরধার দল এবং ১৯ বছর বয়সী ‘প্লাটিনাম-ফুটেড’ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামালকে সামনে রেখে স্প্যানিশ ফুটবলের এক নতুন যুগের সূচনা দেখছেন সমর্থকরা। ৩৩ বছর বয়সী জোয়ান ওয়াসন নামের এক সমর্থক সদ্য তরুণ লিওনেল মেসির কোলে শিশু ইয়ামালের সেই ভাইরাল ছবির প্রতীকী অর্থ খুঁজে পেয়ে বলেন, ‘এটা যেন নিয়তি। মেসির লামিনকে গোসল করানোর সেই ছবিটা ছিল; আর এখন তিনি (মেসি) যেন তার হাতে ট্রফি ও রাজত্ব তুলে দিচ্ছেন।’
সহজ ছিল না ফাইনালের লড়াই ফাইনালে স্পেন বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং সুযোগ তৈরির দিক দিয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল। তবে মেসি-নেতৃত্বাধীন আলবিসেলেস্তেরা নাছোড়বান্দা ডিফেন্ডিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিক পর্যন্ত স্কোরলাইন গোলশূন্য (০-০) ধরে রেখেছিল। এমনকি ৯৩ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হলেও হাল ছাড়েনি। অবশেষে ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা জাদুকরী গোলেই নিশ্চিত হয় স্পেনের বিশ্বজয়।
ইংল্যান্ড থেকে আসা স্পেনের সমর্থক চার্লি ওয়েবস্টার বলেন, ‘স্পেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের জয়টাই প্রাপ্য ছিল। তবে আর্জেন্টিনা পেনাল্টিতে গেলে লটারির মতো যেকোনো কিছু হতে পারত, তাই আমি কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেরা দলটিই জিতেছে।’
২৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার পেদ্রি এবং ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে নিয়ে গড়া এই তরুণ দলটিকে নিয়ে স্প্যানিশ সমর্থক সারে মনজোন বলেন, ‘আমরা তাদের নিয়ে ভীষণ গর্বিত। তারা আমাদের দেশের অদম্য সম্ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করছে।’
আরেক সমর্থক ব্রায়ান ল্যাসি এই পালাবদলকে দেখছেন ভিন্নভাবে, ‘এটি একটি প্রজন্মগত পরিবর্তন। মেসির অধ্যায় এখন শেষ, আর এখন লামিন ইয়ামালের সময়। স্পেন এখন ফুটবল বিশ্বের শীর্ষে অবস্থান করছে।’
এক যুগের অবসান, আর্জেন্টাইন ভক্তদের চোখে জল অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার ভক্তরা শুধু চ্যাম্পিয়নশিপ হারানোর বেদনাই নয়, বরং দেশকে ফুটবলের সোনালি দিনে ফিরিয়ে আনার কারিগর লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে প্রায় নিশ্চিত বিদায়ের বিষয়টিও মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
টাইমস স্কয়ারে মেসির পুতুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা লিলি নামের এক আর্জেন্টাইন ভক্ত বলেন, ‘মেসি যা করেছে, তা কেউ করতে পারেনি, এমনকি পেলেও নয়। মেসি আমাদের তিনটি বৈশ্বিক ফাইনালে নিয়ে গেছেন, অনেক আনন্দ দিয়েছেন।’
নিউজার্সির বাসিন্দা মারভিন রেয়েসের মতে, ‘মেসি জাতীয় দলের জন্য সবকিছু করেছেন। তিনি দলটাকে নিজের কাঁধে বয়ে নিয়ে গেছেন এবং ২০২২ সালে ৩৬ বছরের বিশ্বকাপ খরা ঘুচিয়েছিলেন।’
আর্জেন্টিনা থেকে আসা ৪৮ বছর বয়সী হোয়াকিন মার্টিনেজ তার সন্তানদের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার কাছে ম্যারাডোনাই ছিল সব, কিন্তু আমার সন্তানদের কাছে সেটা মেসি। যেহেতু মেসি আর থাকবেন না, তাই এখন দলকে নতুন করে অনেক কাজ করতে হবে। আজকের হারের পর অবশ্যই আমাদের খারাপ লাগছে, তবে এটাই তো ফুটবল।’

আপনার মতামত লিখুন