প্রাইম টিভি
আপডেট : বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

সেচকাজে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারে নেয়া হচ্ছে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প: বিএমডিএ চেয়ারম্যান

সেচকাজে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারে নেয়া হচ্ছে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প: বিএমডিএ চেয়ারম্যান

উপকূলের প্রত্যেকটি ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম

উপকূলের প্রত্যেকটি ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম

মহেশখালীর শাপলাপুর পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির আস্তানার সন্ধান, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জামসহ আটক ১

মহেশখালীর শাপলাপুর পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির আস্তানার সন্ধান, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জামসহ আটক ১

শরণখোলায় ৬ বছরের শিশুকে ধ*র্ষ*ণে*র অভিযোগ,৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি আটক

শরণখোলায় ৬ বছরের শিশুকে ধ*র্ষ*ণে*র অভিযোগ,৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি আটক

মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না : প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না : প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবির বিশেষ অভিযান, সাইবার অপরাধে নাহিদ গ্রেফতার

পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবির বিশেষ অভিযান, সাইবার অপরাধে নাহিদ গ্রেফতার

গাজীপুরে নিটিং ফ্যাক্টরীতে নিরাপত্তা কর্মীর হাত-পা বেঁধে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

গাজীপুরে নিটিং ফ্যাক্টরীতে নিরাপত্তা কর্মীর হাত-পা বেঁধে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

নওগাঁর মান্দায় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নওগাঁর মান্দায় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস: আয় কমেছে দিনমজুর-রিকশাচালকদের

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস: আয় কমেছে দিনমজুর-রিকশাচালকদের

গ্রীষ্মের টানা কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও রিকশাচালকদের মতো নিম্ন আয়ের লোকজন।

তীব্র গরম হলেও রোজ উপার্জনের তাগিদে ঘরে থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু এ দাবদাহে কায়িক পরিশ্রমের পরও উপার্জন কমে এসেছে বলেও জানান কেউ কেউ।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে শহরের জিমখানা, মন্ডলপাড়া ও নিতাইগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র রোদের কারণে দিনমজুর, রিকশাচালক ও শ্রমিকরা ভারী কাজ করতে গিয়ে দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। তবে, পেটের তাগিদে এই অসহনীয় গরম উপেক্ষা করেই কাজে নামতে হয়েছে বলে জানান তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে মানুষের শুধু শারীরিক ভোগান্তিই বাড়ছে না, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও, তৈরি হচ্ছে চরম মানসিক অস্থিরতা।

শহরের নিতাইগঞ্জে আলাউদ্দিন খাঁ স্টেডিয়াম। যেটি স্থানীয়দের কাছে জিমখানা মাঠ বলে অধিক পরিচিত। স্বাভাবিক দিনগুলোতে এ মাঠে শিশু-কিশোর-তরুণদের ভিড় থাকে। তাদের খেলাধুলায় মুখরিত থাকে চারদিক। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকেও রোদের তাপ না কমাতে এটি ছিল প্রায় ফাঁকা।

কিন্তু পাশের সড়কে কথা হয় এই তপ্ত রোদেও রিকশা নিয়ে বের হওয়া রনির সঙ্গে। শহরের হাজীগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়াবাসায় থাকেন তিনি।

“কয়েকদিন ধরে রোদের যে তাপ, রিকশা চালানো অসম্ভব হয়া পড়ছে। রোদ বেশি হলে মানুষ ঘর থেকে কম বের হয়, আমাদের আয়ও কমে গেছে,” বলেন রনি।

এদিকে রিকশা চালাতে গিয়ে পায়ে ভাঙা কাঁচের টুকরা বিঁধে যাওয়ায় গত দু’দিন বাসা থেকে বের হতে না পারার কথাও জানান। এদিকে, নয় বছরের ছেলেকে স্কুলে দিয়েছেন, খরচ বেড়েছে। তাই পায়ের ব্যথা পুরোপুরি না সারতেই বেরিয়েছিলেন আবার রিকশা নিয়ে।

“দুইদিন বসা ছিলাম। ঘরে কামাই না আইলে চলব কেমনে? বউ তো চিল্লাচিল্লি করতাছে। পোলার পড়াশোনার খরচ আছে। প্রতিদিন রিকশা নিয়া না বের হলে সংসার চালানো যায় না।”

এদিকে, তপ্ত গরমে শহরে লোকজনের চলাচল কমে এসেছে জানিয়ে এ চালক বলেন, আগে একবেলায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা উপার্জন হলেও এখন তা ৫০০ তে নেমে এসেছে।

ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার নিতাইগঞ্জে কথা হয় দিনমজুর মোহাম্মদ জসিমের সাথে। ট্রাকে আনা ভুট্টা খালাসে ব্যস্ত জসিম জানালেন এত বড় একটি বাজারে সুপেয় পানির সুব্যবস্থা না থাকার আক্ষেপের কথা।

“নিতাইগঞ্জের ঠিক পাশেই নগর ভবন (সিটি কর্পোরেশন)। প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার শ্রমিক এত পরিশ্রম করে, অথচ আমাদের জন্য একটা ভালো খাবার পানির ব্যবস্থা নাই। ঠাণ্ডা পানি পাওয়া তো আমাদের জন্য বিলাসিতা! আমাদের এই কষ্ট শোনার মতো কেউ নাই, সবাই যার যার স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত,” বলেন তিনি।

এদিকে, এত ব্যস্ততা ও পরিশ্রমের মধ্যেও শ্রমিকরা একে অপরের সঙ্গে রসিকতাও করছিলেন। কেউ কেউ ক্লান্ত হয়ে বসে ছিলেন সড়কের পাশে কোনো গাছের নিচে কিংবা কোনো চায়ের দোকানের ছাউনিতে।

তারা বলছিলেন, এক পশলা বৃষ্টি নামলে অন্তত পরিবেশটা ঠান্ডা হতো। এতে তাদের কাজেও ক্লান্তি কম হতো।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
প্রাইম টিভি

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


তীব্র গরমে হাঁসফাঁস: আয় কমেছে দিনমজুর-রিকশাচালকদের

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image



গ্রীষ্মের টানা কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও রিকশাচালকদের মতো নিম্ন আয়ের লোকজন।


তীব্র গরম হলেও রোজ উপার্জনের তাগিদে ঘরে থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু এ দাবদাহে কায়িক পরিশ্রমের পরও উপার্জন কমে এসেছে বলেও জানান কেউ কেউ।


বুধবার (৩ জুন) দুপুরে শহরের জিমখানা, মন্ডলপাড়া ও নিতাইগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র রোদের কারণে দিনমজুর, রিকশাচালক ও শ্রমিকরা ভারী কাজ করতে গিয়ে দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। তবে, পেটের তাগিদে এই অসহনীয় গরম উপেক্ষা করেই কাজে নামতে হয়েছে বলে জানান তারা।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে মানুষের শুধু শারীরিক ভোগান্তিই বাড়ছে না, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও, তৈরি হচ্ছে চরম মানসিক অস্থিরতা।


শহরের নিতাইগঞ্জে আলাউদ্দিন খাঁ স্টেডিয়াম। যেটি স্থানীয়দের কাছে জিমখানা মাঠ বলে অধিক পরিচিত। স্বাভাবিক দিনগুলোতে এ মাঠে শিশু-কিশোর-তরুণদের ভিড় থাকে। তাদের খেলাধুলায় মুখরিত থাকে চারদিক। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকেও রোদের তাপ না কমাতে এটি ছিল প্রায় ফাঁকা।


কিন্তু পাশের সড়কে কথা হয় এই তপ্ত রোদেও রিকশা নিয়ে বের হওয়া রনির সঙ্গে। শহরের হাজীগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়াবাসায় থাকেন তিনি।


“কয়েকদিন ধরে রোদের যে তাপ, রিকশা চালানো অসম্ভব হয়া পড়ছে। রোদ বেশি হলে মানুষ ঘর থেকে কম বের হয়, আমাদের আয়ও কমে গেছে,” বলেন রনি।


এদিকে রিকশা চালাতে গিয়ে পায়ে ভাঙা কাঁচের টুকরা বিঁধে যাওয়ায় গত দু’দিন বাসা থেকে বের হতে না পারার কথাও জানান। এদিকে, নয় বছরের ছেলেকে স্কুলে দিয়েছেন, খরচ বেড়েছে। তাই পায়ের ব্যথা পুরোপুরি না সারতেই বেরিয়েছিলেন আবার রিকশা নিয়ে।


“দুইদিন বসা ছিলাম। ঘরে কামাই না আইলে চলব কেমনে? বউ তো চিল্লাচিল্লি করতাছে। পোলার পড়াশোনার খরচ আছে। প্রতিদিন রিকশা নিয়া না বের হলে সংসার চালানো যায় না।”


এদিকে, তপ্ত গরমে শহরে লোকজনের চলাচল কমে এসেছে জানিয়ে এ চালক বলেন, আগে একবেলায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা উপার্জন হলেও এখন তা ৫০০ তে নেমে এসেছে।


ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার নিতাইগঞ্জে কথা হয় দিনমজুর মোহাম্মদ জসিমের সাথে। ট্রাকে আনা ভুট্টা খালাসে ব্যস্ত জসিম জানালেন এত বড় একটি বাজারে সুপেয় পানির সুব্যবস্থা না থাকার আক্ষেপের কথা।


“নিতাইগঞ্জের ঠিক পাশেই নগর ভবন (সিটি কর্পোরেশন)। প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার শ্রমিক এত পরিশ্রম করে, অথচ আমাদের জন্য একটা ভালো খাবার পানির ব্যবস্থা নাই। ঠাণ্ডা পানি পাওয়া তো আমাদের জন্য বিলাসিতা! আমাদের এই কষ্ট শোনার মতো কেউ নাই, সবাই যার যার স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত,” বলেন তিনি।


এদিকে, এত ব্যস্ততা ও পরিশ্রমের মধ্যেও শ্রমিকরা একে অপরের সঙ্গে রসিকতাও করছিলেন। কেউ কেউ ক্লান্ত হয়ে বসে ছিলেন সড়কের পাশে কোনো গাছের নিচে কিংবা কোনো চায়ের দোকানের ছাউনিতে।


তারা বলছিলেন, এক পশলা বৃষ্টি নামলে অন্তত পরিবেশটা ঠান্ডা হতো। এতে তাদের কাজেও ক্লান্তি কম হতো।


প্রাইম টিভি

নির্বাহী পরিচালক  

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত প্রাইম টিভি