মতলব উত্তরে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রবাসী পরিবারের মানববন্ধন
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের উত্তর টরকী গ্রামে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলাকালে এক প্রবাসী পরিবারের বাড়ির সীমানা প্রাচীর (দেওয়াল) জোরপূর্বক গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে উত্তর টরকী নাজিমুদ্দিন সরকার বাড়ির সামনে সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভাঙা দেওয়াল পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। কর্মসূচির আয়োজন করে উত্তর টরকী গ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টরকী বাজার-ইঞ্জিনিয়ার শান্তি সরকার বাড়ি-সুলতানাবাদ ইউপি অফিস-নন্দলালপুর বাজার সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় চলমান সড়ক উন্নয়ন কাজের সময় উত্তর টরকী গ্রামের মৃত রুহুল আমিন সরকারের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প (CDWSP)-এর অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রায় ৪ হাজার ২২৫ মিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ৪৯ কোটি ৪১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫০ টাকা।
রুহুল আমিন সরকারের ছোট ছেলে ও প্রবাসী মাসুদ সরকার অভিযোগ করে বলেন, আমরা তিন ভাই বিদেশে থাকি। আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঠিকাদার স্বপন দেওয়ানজী জোরপূর্বক আমাদের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেছে। আমাদের সীমানা রাস্তা থেকে প্রায় দুই ফুট বাইরে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই প্রাচীর ভাঙা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমার বাবা অনেক কষ্ট করে সুন্দরভাবে এই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন। এই প্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। গত মাসে স্ট্রোক করে তিনি মারা গেছেন। যদি রাস্তা নির্মাণের স্বার্থে সবার স্থাপনা সমানভাবে ভাঙা হতো, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকত না। কিন্তু আমরা দেখেছি অনেকের স্থাপনা রাস্তার ভেতরে থাকলেও সেগুলো ভাঙা হয়নি। আমাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় আমাদের দেওয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি জোরপূর্বক ধ্বংস করা আইনসঙ্গত নয়। যদি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোনো স্থাপনা অপসারণের প্রয়োজন হয়, তবে সংশ্লিষ্ট মালিককে নোটিশ প্রদান, আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, রাস্তা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একই ধরনের অবস্থানে থাকা সব স্থাপনার বিরুদ্ধে সমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও বৈষম্যের অভিযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই। কিন্তু উন্নয়নের নামে কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিচার, ক্ষতিপূরণ এবং ভাঙা দেওয়াল পুনর্নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযোগের ব্যাপারে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি স্বপন দেওয়ানজীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
মতলব উত্তরে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রবাসী পরিবারের মানববন্ধন
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের উত্তর টরকী গ্রামে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলাকালে এক প্রবাসী পরিবারের বাড়ির সীমানা প্রাচীর (দেওয়াল) জোরপূর্বক গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে উত্তর টরকী নাজিমুদ্দিন সরকার বাড়ির সামনে সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভাঙা দেওয়াল পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। কর্মসূচির আয়োজন করে উত্তর টরকী গ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টরকী বাজার-ইঞ্জিনিয়ার শান্তি সরকার বাড়ি-সুলতানাবাদ ইউপি অফিস-নন্দলালপুর বাজার সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় চলমান সড়ক উন্নয়ন কাজের সময় উত্তর টরকী গ্রামের মৃত রুহুল আমিন সরকারের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প (CDWSP)-এর অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রায় ৪ হাজার ২২৫ মিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ৪৯ কোটি ৪১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫০ টাকা।
রুহুল আমিন সরকারের ছোট ছেলে ও প্রবাসী মাসুদ সরকার অভিযোগ করে বলেন, আমরা তিন ভাই বিদেশে থাকি। আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঠিকাদার স্বপন দেওয়ানজী জোরপূর্বক আমাদের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেছে। আমাদের সীমানা রাস্তা থেকে প্রায় দুই ফুট বাইরে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই প্রাচীর ভাঙা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমার বাবা অনেক কষ্ট করে সুন্দরভাবে এই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন। এই প্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। গত মাসে স্ট্রোক করে তিনি মারা গেছেন। যদি রাস্তা নির্মাণের স্বার্থে সবার স্থাপনা সমানভাবে ভাঙা হতো, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকত না। কিন্তু আমরা দেখেছি অনেকের স্থাপনা রাস্তার ভেতরে থাকলেও সেগুলো ভাঙা হয়নি। আমাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় আমাদের দেওয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি জোরপূর্বক ধ্বংস করা আইনসঙ্গত নয়। যদি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোনো স্থাপনা অপসারণের প্রয়োজন হয়, তবে সংশ্লিষ্ট মালিককে নোটিশ প্রদান, আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, রাস্তা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একই ধরনের অবস্থানে থাকা সব স্থাপনার বিরুদ্ধে সমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও বৈষম্যের অভিযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই। কিন্তু উন্নয়নের নামে কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিচার, ক্ষতিপূরণ এবং ভাঙা দেওয়াল পুনর্নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযোগের ব্যাপারে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি স্বপন দেওয়ানজীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন